ঢাকা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত: সিইসি Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করলেন সিইসি Logo বঙ্গভবনে প্রথম দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Logo ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল Logo হাসিনা-আজিজ-বেনজীরসহ পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা Logo এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট Logo বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদের দল বলে, তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে: মির্জা ফখরুল Logo জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস Logo পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে, সেটি নির্ধারণের প্রক্রিয়া জানালেন মির্জা ফখরুল

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার ৩য় সাধারণ বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ বৈঠক হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন হলে বিষয়টি তারা বিবেচনা করবে।

বৈঠক শেষে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১১ দলীয় ঐক্য ছিল মূলত নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় এ ঐক্যের কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে যায়। তবুও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১১ দলীয় কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেয়। এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস-প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

এর আগে, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় যেন দলের নাম কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার না করা হয়। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, আজ সকালে জোট ত্যাগের বিষয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি। ফোনালাপে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলের একটা সমঝোতা হয়েছিল। আমরাও সেই সমঝোতায় ছিলাম। নির্বাচন-পরবর্তী ১১ দলের কিছু কর্মসূচিতেও আমাদের খানিকটা উপস্থিতি ছিল। কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে আমরা ১১ দলের কোনো কর্মসূচিতে থাকছি না। বর্তমানে সে সমঝোতা নেই, আমরা এটাকে এখন আর কন্টিনিউও করতে চাইছি না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ কিছু বিষয়ে ১১ দলের সঙ্গে আমাদেরও একমত আছে। তবে এখন সে বিষয়গুলো বাস্তবায়নে আমরা পৃথকভাবে কাজ করব। ভবিষ্যতে কোনো ঐক্যের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

সম্প্রতি হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়। ইতোমধ্যে খেলাফত আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য ত্যাগ করেছে। এবার খেলাফত মজলিসও সে পথেই হাঁটল। তবে মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ঐক্যে বহাল আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস

আপডেট সময় ০৪:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার ৩য় সাধারণ বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ বৈঠক হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন হলে বিষয়টি তারা বিবেচনা করবে।

বৈঠক শেষে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১১ দলীয় ঐক্য ছিল মূলত নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় এ ঐক্যের কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে যায়। তবুও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১১ দলীয় কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেয়। এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস-প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

এর আগে, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় যেন দলের নাম কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার না করা হয়। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, আজ সকালে জোট ত্যাগের বিষয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি। ফোনালাপে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলের একটা সমঝোতা হয়েছিল। আমরাও সেই সমঝোতায় ছিলাম। নির্বাচন-পরবর্তী ১১ দলের কিছু কর্মসূচিতেও আমাদের খানিকটা উপস্থিতি ছিল। কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে আমরা ১১ দলের কোনো কর্মসূচিতে থাকছি না। বর্তমানে সে সমঝোতা নেই, আমরা এটাকে এখন আর কন্টিনিউও করতে চাইছি না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ কিছু বিষয়ে ১১ দলের সঙ্গে আমাদেরও একমত আছে। তবে এখন সে বিষয়গুলো বাস্তবায়নে আমরা পৃথকভাবে কাজ করব। ভবিষ্যতে কোনো ঐক্যের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

সম্প্রতি হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়। ইতোমধ্যে খেলাফত আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য ত্যাগ করেছে। এবার খেলাফত মজলিসও সে পথেই হাঁটল। তবে মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ঐক্যে বহাল আছে।