ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের Logo আনসারের পৃথক তিন আইন একীভূত করে একটি আইন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo পদত্যাগ করছেন এমপি ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি Logo তারেক রহমানের ভারত সফর হবে, তবে তারিখ ঠিক হয়নি: দীনেশ ত্রিবেদী Logo কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাইল বিএফআইইউ Logo এবার দুর্গাপূজায় ৫ দিন ছুটি, মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অনিবন্ধিত অনলাইন ও নিউজ পেজের বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তাড়াহুড়ো নেই: দীনেশ ত্রিবেদী Logo ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার Logo প্রাথমিকের বঞ্চিতরা ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগপত্র পাবেন : শিক্ষামন্ত্রী

আদানির বিকল ইউনিট সচল, আজই বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ

নিজস্ব সংবাদ :

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি লোডশেডিং কিছুটা কমার আশা করা হচ্ছে।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই সফলভাবে চালু করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটির জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় (সিঙ্ক্রোনাইজেশন) সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার এক বার্তায় আদানি পাওয়ার জানায়, এপিএল গোড্ডার দ্বিতীয় ইউনিট সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে সফলভাবে চালু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিটটি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটির বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ করতে হয়।

ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও হ্রাস পায়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বিকল হওয়ার আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। তবে ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এতে জ্বালানি সংকটে আগে থেকেই চাপে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যায়।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, বয়লারের ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই মেরামতকাজ শুরু করা হয়। প্রথমদিকে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত শেষ হওয়ায় দ্রুত ইউনিটটি উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।

এর আগে কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অতিবৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল আদানি কর্তৃপক্ষ। এতে কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় কয়লার মজুত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়। পরে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করা সম্ভব হলেও ঠিক তখনই বয়লারের ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে অন্যতম বড় আমদানি উৎস। কেন্দ্রটির দুই ইউনিটে মোট এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিকল ইউনিটটি পুনরায় সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে এবং চলমান লোডশেডিং কিছুটা কমবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ বার পড়া হয়েছে

আদানির বিকল ইউনিট সচল, আজই বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০২:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি লোডশেডিং কিছুটা কমার আশা করা হচ্ছে।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই সফলভাবে চালু করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে ইউনিটটির জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় (সিঙ্ক্রোনাইজেশন) সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার এক বার্তায় আদানি পাওয়ার জানায়, এপিএল গোড্ডার দ্বিতীয় ইউনিট সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে সফলভাবে চালু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিটটি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটির বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ করতে হয়।

ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও হ্রাস পায়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বিকল হওয়ার আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। তবে ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এতে জ্বালানি সংকটে আগে থেকেই চাপে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যায়।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, বয়লারের ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই মেরামতকাজ শুরু করা হয়। প্রথমদিকে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত শেষ হওয়ায় দ্রুত ইউনিটটি উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।

এর আগে কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল। রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অতিবৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল আদানি কর্তৃপক্ষ। এতে কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় কয়লার মজুত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়। পরে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করা সম্ভব হলেও ঠিক তখনই বয়লারের ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে অন্যতম বড় আমদানি উৎস। কেন্দ্রটির দুই ইউনিটে মোট এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিকল ইউনিটটি পুনরায় সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে এবং চলমান লোডশেডিং কিছুটা কমবে।