ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা Logo মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান Logo ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ Logo রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুলই Logo রাজধানীর বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলছে হরিলুট ॥ দেখার কেউ নেই Logo সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেপ্তার Logo রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি Logo মাতারবাড়ি মেগা প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, রোপণ করলেন গাছের চারা Logo গণঅভ্যুত্থান নিউটনের আপেল নয়, ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo জুলাই জাদুঘর যেন দলীয় ইতিহাসের জায়গা না হয়: নাহিদ

প্রধান শিক্ষকের এমপিও সুবিধা স্থগিত

রাজধানীর বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলছে হরিলুট ॥ দেখার কেউ নেই

আমেনা ইসলাম

একের পর এক অভিযোগ, এমপিও স্থগিতের আদেশ, আর্থিক অনিয়মের প্রশ্ন, কোনোটিই যেন থামাতে পারেনি বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক ক্ষমতার বলয়। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাফরুল্লাহ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পরিচিত গোলজার হোসেন সানিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এমন এক প্রভাবশালী বলয়, যেখানে পদ-পদবি, নিয়োগ, বেতন-ভাতা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমের দুর্নীতি আর অনিয়ম যেন ন্যায় আর নিয়মে পরিণত হয়েছে। মাওসি কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও সুবিধা স্থগিত হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। তার সহযোগিতায় বিধি বহির্ভূতভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি গোলজার হোসেন সানি বিভিন্ন অনৈতিক সিদ্ধান্তে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। সাবেক স্বৈরাচার সরকারের নিকটাত্মীয় তাপসের নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম সারির ব্যক্তি মোঃ জাফরুল্লাহ। তিনি বিতর্কিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক সনদ অর্জন করেন, সেই সনদ বিসিএসআইআর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ভাইবা বোর্ডে (২০১৬সালে) উপস্থাপন করেন। উক্ত সনদের মার্ক তার নিয়োগ পরীক্ষায় যুক্ত হয়েছিল।কিন্ত হাইকোর্টের রায় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০০৬ সালের পর দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সকল আউটার ক্যাম্পাসের সনদ অবৈধ বা বাতিল বলে গণ্য করা হয়। এসব সনদ নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে, সনদগুলোর বৈধতা এবং নিয়োগ পরীক্ষায় সেগুলো কীভাবে বিবেচিত হয়েছিল তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য যে, দারুল ইনসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অবৈধ হওয়ায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বেলায় স্বজনপ্রীতি, অবৈধ পন্থা ও শিক্ষার বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।

জানা যায় জাফর উল্লাহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথেই খন্ডকালীন শিক্ষকদেরকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের লেভেলে নিয়ে আসেন এবং তাদের নামের পাশে খন্ডকালীন কথাটি কেটে দিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভেরিফাই ওয়েবসাইটে(ব্যানবেইসে) খন্ডকালীনদেরকে যুক্ত করে দেন। অবৈধ অভিভাবক প্রতিনিধি ডক্টর শাহ জামাল কে ম্যানেজিং কমিটিতে রেখে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ আদায় করে নেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাফর উল্লাহ।

একই ব্যক্তি কি করে শিক্ষক প্রতিনিধি, ও সহকারী প্রধান শিক্ষক? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে গোলজার হোসেন সানির পদ নিয়ে। গোলজার হোসেন সানি ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তৎসঙ্গে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন নথিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বাক্ষর করছেন। ১৯ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ বিদ্যালয়ের একটি নোটিশে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদবি ব্যবহার করে তিনি স্বাক্ষর প্রদান করেন এতে তার স্বাক্ষরের বিষয়টি স্পষ্ট। অন্যদিকে ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনে তাকে ‘শিফট ইনচার্জ-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় ম্যানেজিং কমিটিসহ শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজকর্মে কোন বিধি-বিধান উপেক্ষিত।

গোলজার হোসেন সানির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠে —তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হয়েও ইংরেজি বিষয়ের ক্লাস নিয়েছেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় ইংরেজি খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।এমনকি এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় তিনি ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন । যেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নথি যাচাই করে নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গোলজার হোসেন সানির এ ধরনের কাজকর্মই প্রমাণ করে তিনি প্রতারণা, অবৈধ অর্থ উপার্জনসহ নানা অনিয়মের সাথে সরাসরি জড়িয়ে আছেন।

শিফট ইনচার্জ পদ নিয়েও ধোঁয়াশা: এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামোয় ‘শিফট ইনচার্জ নামে পৃথক কোনো পদ নেই। অথচ ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গোলজার হোসেন সানিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কোন বিধি মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এমন প্রশ্ন থেকেই যায়। বিধি বহির্ভূতভাবে নানা পদ সৃষ্টি করে তিনি প্রশাসনিক এবং কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে।

ভর্তি ফি, পরীক্ষাসহ নানা খাতের অর্থ—কোথায় যাচ্ছে? ভর্তি কার্যক্রম, ডায়েরি, আইডি কার্ড, পোশাক, ক্যান্টিন, গাইড বই, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা এবং ম্যানেজিং কমিটির বিভিন্ন অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বিসিএস আইআর স্কুল এন্ড কলেজের নিত্যনৈণিতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও বিভিন্ন খাত থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে সম্মানী নেওয়া যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এসব অর্থ প্রদানের অনুমোদন কে দিয়েছেন? কোন খাত থেকে টাকা দেওয়া হয়েছে? এবং অর্থ গ্রহণের বিপরীতে যথাযথ ভাউচার ও হিসাব রয়েছে কি না?

অভিযোগের র্শীষ এ তালিকায় রয়েছেন অফিস সহকারী মো. আশিকুর রহমান। ১৫ তম গ্রেডে কর্মরত একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। তথ্যসূত্রে আরো জানা যায়, বিসিএসআইআর কলেজে আর্থিক অনিয়ম এবং অবৈধ সকল কাজের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন এই আশিকুর রহমান। অনুসন্ধানে জানা যায়, একজন অফিস সহকারী হয়ে তার নামে রয়েছে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং মাস্টার্স ট্রাভেলস নামে পরিবহন ব্যবসা। সূত্রে উঠে আসে মাস্টার্স ট্রাভেলস নামে রয়েছে অর্ধশতাধিক বাস। এগুলোর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. আশিকুর রহমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের সাথে জড়িত শিক্ষক এবং অভিভাবকগণের অভিমত সুষ্ঠ তদন্ত করলে তা বেরিয়ে আসবে। ২৪ এর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপেক্ষিতে আশিকুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে টাকার বিনিমযয়ে কমিটিকে ম্যানেজ করে রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

এখন প্রশ্ন তদন্ত হবে কবে? একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, পদ-পদবি, এমপিও, পরীক্ষার কার্যক্রম এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই নির্দিষ্ট বিধি ও জবাবদিহির আওতায় থাকার কথা।কিন্তু বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঘিরে ওঠা ধারাবাহিক অভিযোগগুলো সেই জবাবদিহির ব্যবস্থাকেই রেজুলেশনের নামে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করা হয়েছে।এসব অভিযোগের নিষ্পত্তিতে দরকার নথি যাচাই, আর্থিক অডিট, নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত। এখন দেখার বিষয় অভিযোগের স্তূপ সরিয়ে প্রকৃত সত্য বের করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
১৪ বার পড়া হয়েছে

প্রধান শিক্ষকের এমপিও সুবিধা স্থগিত

রাজধানীর বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলছে হরিলুট ॥ দেখার কেউ নেই

আপডেট সময় ০৮:০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

একের পর এক অভিযোগ, এমপিও স্থগিতের আদেশ, আর্থিক অনিয়মের প্রশ্ন, কোনোটিই যেন থামাতে পারেনি বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক ক্ষমতার বলয়। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাফরুল্লাহ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পরিচিত গোলজার হোসেন সানিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এমন এক প্রভাবশালী বলয়, যেখানে পদ-পদবি, নিয়োগ, বেতন-ভাতা ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমের দুর্নীতি আর অনিয়ম যেন ন্যায় আর নিয়মে পরিণত হয়েছে। মাওসি কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও সুবিধা স্থগিত হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। তার সহযোগিতায় বিধি বহির্ভূতভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি গোলজার হোসেন সানি বিভিন্ন অনৈতিক সিদ্ধান্তে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। সাবেক স্বৈরাচার সরকারের নিকটাত্মীয় তাপসের নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম সারির ব্যক্তি মোঃ জাফরুল্লাহ। তিনি বিতর্কিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাধিক সনদ অর্জন করেন, সেই সনদ বিসিএসআইআর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ভাইবা বোর্ডে (২০১৬সালে) উপস্থাপন করেন। উক্ত সনদের মার্ক তার নিয়োগ পরীক্ষায় যুক্ত হয়েছিল।কিন্ত হাইকোর্টের রায় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০০৬ সালের পর দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সকল আউটার ক্যাম্পাসের সনদ অবৈধ বা বাতিল বলে গণ্য করা হয়। এসব সনদ নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে, সনদগুলোর বৈধতা এবং নিয়োগ পরীক্ষায় সেগুলো কীভাবে বিবেচিত হয়েছিল তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য যে, দারুল ইনসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অবৈধ হওয়ায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বেলায় স্বজনপ্রীতি, অবৈধ পন্থা ও শিক্ষার বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।

জানা যায় জাফর উল্লাহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথেই খন্ডকালীন শিক্ষকদেরকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের লেভেলে নিয়ে আসেন এবং তাদের নামের পাশে খন্ডকালীন কথাটি কেটে দিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভেরিফাই ওয়েবসাইটে(ব্যানবেইসে) খন্ডকালীনদেরকে যুক্ত করে দেন। অবৈধ অভিভাবক প্রতিনিধি ডক্টর শাহ জামাল কে ম্যানেজিং কমিটিতে রেখে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ আদায় করে নেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাফর উল্লাহ।

একই ব্যক্তি কি করে শিক্ষক প্রতিনিধি, ও সহকারী প্রধান শিক্ষক? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে গোলজার হোসেন সানির পদ নিয়ে। গোলজার হোসেন সানি ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তৎসঙ্গে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন নথিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বাক্ষর করছেন। ১৯ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ বিদ্যালয়ের একটি নোটিশে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদবি ব্যবহার করে তিনি স্বাক্ষর প্রদান করেন এতে তার স্বাক্ষরের বিষয়টি স্পষ্ট। অন্যদিকে ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনে তাকে ‘শিফট ইনচার্জ-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় ম্যানেজিং কমিটিসহ শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজকর্মে কোন বিধি-বিধান উপেক্ষিত।

গোলজার হোসেন সানির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠে —তিনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হয়েও ইংরেজি বিষয়ের ক্লাস নিয়েছেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় ইংরেজি খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।এমনকি এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় তিনি ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন । যেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নথি যাচাই করে নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গোলজার হোসেন সানির এ ধরনের কাজকর্মই প্রমাণ করে তিনি প্রতারণা, অবৈধ অর্থ উপার্জনসহ নানা অনিয়মের সাথে সরাসরি জড়িয়ে আছেন।

শিফট ইনচার্জ পদ নিয়েও ধোঁয়াশা: এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামোয় ‘শিফট ইনচার্জ নামে পৃথক কোনো পদ নেই। অথচ ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গোলজার হোসেন সানিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কোন বিধি মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এমন প্রশ্ন থেকেই যায়। বিধি বহির্ভূতভাবে নানা পদ সৃষ্টি করে তিনি প্রশাসনিক এবং কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে।

ভর্তি ফি, পরীক্ষাসহ নানা খাতের অর্থ—কোথায় যাচ্ছে? ভর্তি কার্যক্রম, ডায়েরি, আইডি কার্ড, পোশাক, ক্যান্টিন, গাইড বই, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা এবং ম্যানেজিং কমিটির বিভিন্ন অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বিসিএস আইআর স্কুল এন্ড কলেজের নিত্যনৈণিতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও বিভিন্ন খাত থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে সম্মানী নেওয়া যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এসব অর্থ প্রদানের অনুমোদন কে দিয়েছেন? কোন খাত থেকে টাকা দেওয়া হয়েছে? এবং অর্থ গ্রহণের বিপরীতে যথাযথ ভাউচার ও হিসাব রয়েছে কি না?

অভিযোগের র্শীষ এ তালিকায় রয়েছেন অফিস সহকারী মো. আশিকুর রহমান। ১৫ তম গ্রেডে কর্মরত একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। তথ্যসূত্রে আরো জানা যায়, বিসিএসআইআর কলেজে আর্থিক অনিয়ম এবং অবৈধ সকল কাজের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন এই আশিকুর রহমান। অনুসন্ধানে জানা যায়, একজন অফিস সহকারী হয়ে তার নামে রয়েছে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট এবং মাস্টার্স ট্রাভেলস নামে পরিবহন ব্যবসা। সূত্রে উঠে আসে মাস্টার্স ট্রাভেলস নামে রয়েছে অর্ধশতাধিক বাস। এগুলোর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. আশিকুর রহমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের সাথে জড়িত শিক্ষক এবং অভিভাবকগণের অভিমত সুষ্ঠ তদন্ত করলে তা বেরিয়ে আসবে। ২৪ এর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিপেক্ষিতে আশিকুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে টাকার বিনিমযয়ে কমিটিকে ম্যানেজ করে রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

এখন প্রশ্ন তদন্ত হবে কবে? একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, পদ-পদবি, এমপিও, পরীক্ষার কার্যক্রম এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই নির্দিষ্ট বিধি ও জবাবদিহির আওতায় থাকার কথা।কিন্তু বিসিএসআইআর স্কুল অ্যান্ড কলেজকে ঘিরে ওঠা ধারাবাহিক অভিযোগগুলো সেই জবাবদিহির ব্যবস্থাকেই রেজুলেশনের নামে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করা হয়েছে।এসব অভিযোগের নিষ্পত্তিতে দরকার নথি যাচাই, আর্থিক অডিট, নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত। এখন দেখার বিষয় অভিযোগের স্তূপ সরিয়ে প্রকৃত সত্য বের করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।