ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ব বাজারে বাড়ল তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বুধবার (১ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) পর্যন্ত লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বা ০ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ২৮ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৪ সেন্ট বা ০ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে হয় ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৮৪ ডলার। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।
তেলবাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল বা পূর্বানুমানযোগ্য নয়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন কোনো সমঝোতা না হলে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেই থাকবে এবং তেলের দামে বড় ধরনের পতন আপাতত নাও দেখা যেতে পারে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছান। হোয়াইট হাউস একে ‘উচ্চপর্যায়ের’ আলোচনা বলে উল্লেখ করলেও ইরান ও কাতার জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদল সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নয়, বরং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানিও এসব আলোচনায় অংশ নেন।
এদিকে বছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪৫ ডলার কমেছে, যা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ৩১ ডলার কমেছে, যা ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের পর সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক পতন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রশমনের অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা কমেছে। ফলে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালের তেলের মূল্য পূর্বাভাস কমিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহেও অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৬১ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে পেট্রোলের মজুতও হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বুধবার সরকারি মজুতের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করবে।










