প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ এলাকা পরিদর্শন এবং জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ বুধবার (১ জুলাই) দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরুতে পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় ৩ নং গলির এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
পরে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দবাজার খাল পরিদর্শনসহ পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ সংলগ্ন গলি, বাইশটেকী সরকারবাড়ি মোড় এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিটি স্থানে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পৃথকভাবে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
মতবিনিময়কালে স্থানীয় বাসিন্দারা ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে পানির সংকট, গ্যাস সংকট, ড্রেনেজব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা এবং ভাঙা রাস্তার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বাজারের অবৈধ দখল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মাদক ও কিশোর গ্যাং এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর কথাও তারা উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘দেশের সমগ্র জনপদের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব এলাকার সমস্যার সমাধানকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতার আবেদন অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।’
তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতার নির্বাচনী এলাকা যেন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন জারি করেছেন। এই অনুশাসনের ভিত্তিতে তিনি টিম লিডার হিসেবে আজ উক্ত এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘আজ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি দল ও বিরোধী দল আমরা একত্রে এলাকার সমস্যা সমাধানে মিলিত হয়েছি। জনগণের সহায়তায় আমরা সব সমস্যার সমাধান করব, ইনশাল্লাহ।’
জাতীয় স্বার্থে বিরোধীদলীয় নেতার ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় স্বার্থে সহযোগিতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে এগুলোর স্থায়ী সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য ওয়াসা, তিতাস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরো জানান, পরিদর্শনে প্রাপ্ত সব তথ্য সংকলন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ চূড়ান্ত করা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আমার কথা শুনেছেন এবং রেখেছেন। আমরা সরকারি দল ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে এলাকার সব উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদার হব এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব।’
উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় আপনাদের জীবন ও সম্পদের পাহারাদার হিসেবে পাশে আছি। শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, জনগণের দুর্ভোগের বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর সমাধান বের করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো সুনির্দিষ্ট আসনের নন, বরং তিনি সমগ্র দেশের ৩০০ আসনেরই নেতা। প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব কিছু কেবল সরকারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাস রেখে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রতিনিয়ত প্রতিদিন বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণ ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম ,খাল পুনরুদ্ধার করে খাল সংস্কার, ড্রেন সংস্কার, রাস্তাঘাট সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান ও বৃক্ষরোপণ অভিযানসহ সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে আরো সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত বক্তারা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনস্বার্থে সরকার এবং বিরোধী দলের এই সমন্বিত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি অনন্য ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা-১৫ আসনের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোর একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান আসবে বলে সর্বস্তরের মানুষ আশা প্রকাশ করছেন।
পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি, বিদ্যুৎ বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিবৃন্দসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।